টাকার জন্যের সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন পাষন্ড বাবা।নারী ছেড়াধনকে ফিরে পেতে আইনের দারস্থ হন জন্মদাত্রী মা।থানায় মামলা দায়ের এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত বাবাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে শান্তিগঞ্জ পুলিশ। অভিযুক্ত পিতা জামালগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের সালেনূর মিয়াসহ সহায়তাকারীদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। গেফতারকৃত বাকিরা হলেন,শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বাবনিয়া গ্রামের মৃত আশক আলীর ছেলে মনযর আলী (৪৫),সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের মৃত ধারিছ মিয়ার ছেলে রমাই মিয়া (৫৫)এবং সুনামগঞ্জ পৌরসভার হাছননগরের খেজাউড়া গ্রামের মৃত রফিক আলমের মেয়ে লাকি আক্তার(৩৮)।সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।মামলার এজহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,কিছুদিন যাবত মামলার বাদী মাফিয়া বেগম (৩০) এর সাথে স্বামীর সালেকনূর এর মনোমালিন্যতা চলে আসছিল।১ মাস পূর্বে স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় দুই সন্তান রাব্বী ও মকবুলকে নিয়ে বাবার বাড়ি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বাবনিয়া গ্রামে চলে আসেন।গত ২৫ আগস্ট সালেনুর মিয়া তার শ্বশুরবাড়ি বাবনিয়া গ্রামে এসে স্ত্রী ও ছেলেদের নিয়ে যেতে চাই স্ত্রী মাফিয়া বেগম যেতে রাজি হননি।তখন সালেনূর মিয়া জানায় তাহার মা অসুস্থ,তিনি সালেনুর মিয়ার ছেলেদেরকে দেখতে চায়। মাফিয়া বেগম সরল বিশ্বাসে তাহার দুই ছেলেকে স্বামী সালেনুর মিয়ার সহিত দিয়ে দেন।১৬ সেপ্টেম্বর সালেনুর মিয়া পুনরায় তাহার শ্বশুরবাড়িতে আসলে স্বামীর সালেকনুরের কাছে দুই ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে সালেনুর মিয়া জানায় যে তার দুই ছেলে তার দাদির সাথে ঢাকা শহরে রয়েছে।মাফিায় বেগম তার শ্বাশুড়ির সাথে কথা বলে জানতে পারেন যে তার বড় ছেলে রাব্বি হাসান উনার কাছে থাকলেও মকবুল কোথায় আছে তা তিনি জানেন না।ছোট ছেলে মাকবুল হাসানের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিলে সে তালবাহানা করে সালেকনুর সেখান থেকে সরে পড়েন।একপর্যায়ে জানা যায়,সালেনুর মিায় অভিযুক্ত মনযর রমাই সহায়তায় পৌরসভার হাছননগরের বাসিন্দা লাকি আক্তার এর কাছে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছেলে মাকবুল হাসানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। উক্ত ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানার মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ অনুযায়ি একটি মামলা দায়ের করেন ভিকটিম মা মাফিয়া বেগম।পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ এহসান শাহ এর নির্দেশে ও জগন্নাথপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুভাশীষ ধর এর তত্তাবধানে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদ চৌধুরীরর সার্বিক দিক নির্দেশনায় মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নরসিংদী জেলা থেকে ভিকটিম শিশু মকবুলকে উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেফতার করেন এসআই মোহন রায়।জগন্নাথপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুভাশীষ ধর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভিকটিম উদ্ধারসহ অভিযুক্ত বাবা ও সহায়তাকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।