পিরোজপুর প্রতিনিধি :
রাতের আঁধারে মেয়ের বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে মায়ের মৃত্যুদেহ রেখে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।ছেলের দাবি অসুস্থতার জেরে সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে হত্যা করে তার ঘরের সামনে রেখে দিয়েছে বোন।রবিবার (২৪ মার্চ) ভোররাতে অনুমান চারটার দিকে মৃত শোভা রানী হালদার (৭২) নামক বৃদ্ধকে তার ঘরের সামনে হোগলা পাতা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায় তার ছেলে গুরু সদায় হালদার।ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের লেবুবাড়ি গ্রামে।শোভা রানী হালদার একই গ্রামের মুকুন্দ লাল হালদারের স্ত্রী।গ্রামবাসী সূত্রে জানান, মৃত শোভা রানী হালদার দম্পতি তার একমাত্র মেয়ে বনশ্রী বাগচীকে পার্শ্ববর্তী খেজুরবাড়ি গ্রামে বিয়ে দেন। মৃত শোভারানী হালদার ও তার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা গত ৯ মাস আগে মেয়ে তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়।মৃতের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে চাকরির সুবাদে বাড়িতে কম আসায় মেয়ে বেশি দেখাশুনা করত তাদের।সেই সুযোগে মেয়েকে পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন তার বাবা।এটা নিয়ে দুই ভাই বোনের মধ্যে মতানৈক্য ছিল।মৃত শোভা রানী হালদারের ছেলে গুরু সদাই হালদার বলেন, তাদের একই বাড়িতে একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ায় ঘুম থেকে ভোর চারটার দিকে উঠে দেখি ঘরের উঠানে একটি লাশ পড়ে আছে।তাৎক্ষণিক বাড়ির সবাইকে বিষয়টি জানালে হোগলা পাতা দিয়ে মোড়ানো লাশটি খুলে দেখি আমার মা।আমার ধারণা সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পরে অসুস্থ্য মাকে হত্যা করে রাতের অন্ধকারে ঘরের সামনে রেখে দিয়েছে আমার একমাত্র বোন ও ভগ্নিপতি।অভিযুক্ত মেয়ে বনশ্রী ও মেয়ে জামাই বিমল বাগচী রহিম জানান, আমার শ্বশুর স্বইচ্ছায় তার সম্পত্তির অর্ধেক আমাদের লিখে দিয়েছে।আমরা জোর করে তার সম্পত্তি লিখি নেয়নি। তবে গতকাল মা মারা গিয়েছে আমরা মৌখিকভাবে তাদেরকে জানিয়েছিলাম কিন্তু জমি আমার নামে লিখে দিয়েছিল বলে ভাই এটাকে মেনে নেয়নি।তাই কাক ঢাকা ভোরে ঘরের সামনে লাশ রেখে এসেছি।অসুস্থ জনিত কারণে সে মারা গেছে আমরা তাকে হত্যা করিনি।গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) দ্বীপেন সরকার জানান, এটা কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয়!তাহলে গ্রামের কাউকে না জানিয়ে পরের দিন ভোররাতে লাশ কেন তার ঘরের সামনে রেখে দেবে। আমি ঘটনাটি জেনেছি পরের দিন সকাল সাতটার দিকে। আমাদের জানালে গ্রামবাসীর সহায়তায় লাশ তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দিতাম।ইউপি সদস্য মনোজ কুমার ঢালী বলেন, তাদের দুই ভাই বোনের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা চলছিল।শুনেছি গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি মারা গেছেন।কিভাবে মারা গেছেন সেটা আমি জানি না তবে একইদিন ভোররাতে তার (ছেলে গুরু সদায়) মায়ের লাশ হোগলা পাতা দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ঘরের সামনে রেখে কে বা কারা পালিয়ে গেছে কেউ দেখিনি।এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ এইচএম শাহীন বলেন, প্রাথমিকভাবে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মেয়ে ও তার স্বামীকে থানায় নিয়ে এসেছি।মৃতের লাশ উদ্ধার করে থানায় সংরক্ষিত আছে।আইনি প্রক্রিয়া চলমান।