মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :
পূর্ব শত্রæতার জেরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বাবার চোখের সামনে ছেলে জয়নাল (২৩) কে ধারালা অস্ত্র দিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা সোহরাব মৃধা ১০ অক্টোবর পাশ^বর্তী বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানায় মামলা করেছেন বলে শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। সোহরাব মৃধা উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের তাফাল বাড়িয়া গ্রামের মৃত রুস্তুম আলী মৃধার ছেলে।আসামীরা হলো- ওই তাফাল বাড়িয়া গ্রামের ছোহরাব মাতুব্বরের ছেলে আল আমিন (২৫), জাহাঙ্গীর (৪৫), আলম (৩৫), সোবাহান (৪৮), মৃত. সাদিমান হাওলাদারের ছেলে শাহজাহান (৫১), ইন্দুরকানী সদর গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের ছেলে রাসেল (২১), রুবেল (২১), ছোবাহন মাতুব্বরের ছেলে মনির (২৩), পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ কাঠালতলী গ্রামের মৃত. মজিদ মিয়ার ছেলে মঞ্জু (৩০), মৃত নূর মোহাম্মদ জমাদ্দারের ছেলে খলিল (৪৫), চরদুয়ানী গ্রামের মৃত, আসমত আলী খানের ছেলে কাশেম খা (৪৫) এবং অজ্ঞাত ৯ জন।মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে সুন্দরবন এলাকায় মাছ ধরার জন্য সোহরাব মৃধা এবং তার বড় ছেলে জয়নাল, মেঝ ছেলে সোহেল ও মাঝি সালাম খান ট্রলার যোগে বাড়ি থেকে রওনা হন। পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়াণী বাজার থেকে রাতে ট্রলারে বরফ বোঝাই করে শরণখোলা থানাধীন কস্তুরা খালে রাত ৩ টার দিকে নোঙ্গর করেন। ৫ অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে প্রতিপক্ষ সোহরাব মাতুব্বরের ছেলে আল আমীন ও জাহাঙ্গীর এর নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল ৪ টি ট্রলার যোগে এসে তাদের ট্রালার ঘেরাও করে গালমন্দ শুরু করে। জয়নাল শোয়ার রুম থেকে বেড়িয়ে সামনে বেড় হওয়ার সাথে-সাথে পূর্ব পরিকল্পণা অনুয়ায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জয়নাল নদীতে ফেলে দেয়। এসময় সোহরাব মৃধা, ছেলে জয়নালকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও হামলা চালানোর চেষ্টা করলে সে নদীতে ঝাপ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়। ৬ অক্টোবর রোববার সন্ধার দিকে ওই নদী থেকে নিহত জয়নালের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে মঠবাড়িয়া থানায় নিয়ে আসা হয়।মঠবাড়িয়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন নিহত জয়নালের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি শরণখোলা থানার আওতায় হওয়ায়, নিহতের পরিবারকে শরণখোলা থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।শরণখোলা থানার ওসি এএইচ এম কামরুজ্জামান খান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি যেহেতু নদীর মধ্যে, তাই নৌ-পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করি শিঘ্রই আসামী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।