পিরোজপুর প্রতিনিধি:
জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুরের সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সালমা রহমান হ্যাপি ও তার স্বামী পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৯ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপসহকারী পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা দুটি করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, পিরোজপুরের সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সালমা রহমান হ্যাপির নামে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন মৌজায় ১০.০৬৫ একর জমি, মাছিমপুর মৌজায় ১৮ শতক জমিসহ ৯৩ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬০ টাকা মূল্যের ১টি দালান বাড়ি, আমলাপাড়ায় একটি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আধা পাকা দালান বাড়ি, ঢাকা জেলার পল্লবী থানার কাউনিয়া মৌজায় ০৫ কাঠা জমি ক্রয় এবং ও.এ এ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানীর ভবন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি মেশিনারীজ ক্রয়ে তার অংশে ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদসহ মোট ৩ কোটি ৫০ হাজার ৬৮৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এছাড়া ও.এ এ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড এর শেয়ার ক্রয় ১ কোটি টাকা, মেসার্স আবির এন্ড ব্রাদার্স নামে ঠিকাদারী ব্যবসা, টয়োটা এ্যলিয়ন মডেলের ব্যক্তিগত গাড়ী ক্রয় বাবদ ১০ লক্ষ টাকা, ব্যাংক জমার স্থিতি ও বীমা পলিসি বাবদ ৪৭ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮০ টাকা, বিভিন্ন ব্যবসায় পুঁজি (মূলধন) বিনিয়োগ ৫ দশমিক ৬৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬০ টাকাসহ ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৭ কোটি ২৪ লক্ষ ২৮ হাজার ১৪০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। ব্যয়সহ তার অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য হয় ১৬ কোটি ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৯১ টাকা। ওই সম্পদের বিপরীতে তার মোট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১৪ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩০২ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ১ কোটি ৮০ লক্ষ ১ হাজার ২৮৯ টাকার সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জিত যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক।অন্যদিকে সালমা রহমান হ্যাপির স্বামী পিরোজপুর সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান এর নামে পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন মৌজায় ১৫.৪৫ একর জমি, মাছিমপুর মৌজায় ম্যাটারনিটি রোডে ৯১ লক্ষ ৪০ হাজার ৫০৫ টাকা মূল্যের ১ টি দ্বিতলা আবাসিক বাড়ি, ও.এ এ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড নামীয় কোম্পানীর ভবন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, মেশিনারীজ ক্রয়ে তার অংশে ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ১৯৩ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। এছাড়া ও.এ এ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড এর শেয়ার ক্রয়ের ১ কোটি টাকা, ব্যাংক জমার স্থিতি ও বীমা পলিসি বাবদ ১১ লক্ষ ৭৯ হাজার ২২৯ টাকা, আইচ ফ্যাক্টরি নির্মাণ, মেসার্স তৌকির কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারী ব্যবসা, মেসার্স অভি ট্রেডার্স, মেসার্স অভি ব্রিকস ইন্ডাস্ট্রীজ নামে ইটের ভাটায় বিনিয়োগ ও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ১৮৭ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। অর্থাৎ আসামী মোঃ মজিবুর রহমান এর নিজ নামে অর্জিত ও দখলভুক্ত মোট ৫ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৮০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। ব্যয়সহ তার অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৪৯ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৯৬ টাকা। তবে ওই সম্পদের বিপরীতে তার আয় মাত্র ২ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৬২ টাকা। এক্ষেত্রে তার ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭৯ হাজার ৯৩৪ টাকার সম্পদ অসাধু উপায়ে অর্জিত। যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক।এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাদের দুজনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।