ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর থানার শুক্তাগড় ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদ্রাসার ঈদগাহের দীর্ঘদিনের ইমাম মাওলানা আবুল কালামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৯টায় ঈদের নামাজের প্রাক্কালে এঘটনা ঘটে। ওলানা আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরেই ওই ময়দানে ঈদের নামাজের ইমামতি করে আসছিলেন। নামাজের ইমামতির পূর্বে জায়নামাজ থেকে তাকে বিনা নোটিশে সরিয়ে অন্যজনকে দিয়ে নামাজের ইমামতি করা হয়৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য রাখার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদের একক সিদ্ধান্তে ঈদগাহের ঈমাম মাওলানা আবুল কালামকে ঈদের নামাজ আদায়ের আগ মুহুর্তে জোরপূর্বক তাকে সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় অনেক মুসল্লি প্রতিবাদ জানিয়ে নামাজ না পড়ে স্থান ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এসময় শিবিরের জেলা সেক্রেটারি মোঃ সায়েম তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিবাদ জানালে, বিএনপি নেতার লোকজন তার উপর চড়াও হন এবং তাকে মারধরের হুমকি দেয় ৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষভাবে ইমামতি করে আসলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে একজন ইমামকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। অনেকে এটিকে ধর্মীয় বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। ঈদগাহে উপস্থিত বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সহকারি সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এধরনের ফ্যাসিস্ট আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারাই এধরনের কাজ করে জনগন তাদেরকে শক্তভাবে প্রত্যাখ্যান করবে৷ ভুক্তভোগী ইমাম মাওলানা আবুল কালাম বলেন, একজন আলেমকে এভাবে অপমান করা সত্যি লজ্জাজনক। আমি এই ঘটনার তীব নিন্দা জানাই৷ প্রশাসন এবিষয়ে সঠিক ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি।এবিষয়ে তালুকদার আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি৷